ঢাকা ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে সুন্দরবন রক্ষায় ইনসাফের মানববন্ধন, উত্থাপন ১০ দফা দাবি এনডিইউবি ইংরেজি বিভাগে শেকসপিয়ার দিবস উদযাপন তিতুমীর কলেজে সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত  মিঠামইনে শতদল ক্লাবের বর্ণাঢ্য ঈদ পুনর্মিলনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত কচুয়ায় পানের বরজে দুর্বৃত্তদের আগুন: ৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি, নিঃস্ব কৃষক বদর দিবস উপলক্ষে ইনসাফের কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে বাগেরহাট-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন নারী হেনস্থার প্রতিবাদে বাগেরহাটে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল কড়াইল ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে হাসি ফোঁটাও ফাউন্ডেশন পথশিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ করল হাসি ফোঁটাও ফাউন্ডেশন

নেতানিয়াহুর জন্য হুমকি এরদোয়ানের

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (ছবি : সংগৃহীত)

গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে সম্পর্কের চূড়ান্ত অবনতি ঘটে। দফায় দফায় উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেন এরদোয়ান ও নেতানিয়াহু। এমনকি ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্নও করে তুরস্ক। তবে শক্তিশালী দেশদুটি কখনো সরাসরি সংঘাতে না জড়ালেও এবার সেই শঙ্কাই তৈরি হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল।

ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি বলছে, সিরিয়া ইস্যুতে এখন মুখোমুখী দাঁড়িয়ে আছেন এরদোয়ান ও নেতানিয়াহু। বাশার আল আসাদের পতনের পর দামেস্কের ক্ষমতা এখন বিদ্রোহীদের হাতে। তুরস্ক সেখানে নিজের একক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চাচ্ছে, যাকে নিজ স্বার্থের জন্য বড় হুমকি মনে করছে তেল আবিব।

গেল মাসে বাশার আল আসাদের পতনের ঘটে বিদ্রোহীদের হাতে। হায়াত তাহরির আল শামের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীদের এই অভিযানে মদত জুগিয়েছে তুরস্ক। এরদোয়ানের ছকে বাশার আসাদ যখন দৃষ্টিসীমার বাইরে তখনই আবির্ভাব ঘটে ইসরায়েলের। সুযোগ বুঝে সিরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত অঞ্চল কব্জায় নেয় নেতানিয়াহুর বাহিনী। এরপরই ঘটে আসল বিপত্তি।

একদিকে ইসরায়েল যখন সিরিয়াকে দুর্বল করতে চাইছে, ঠিক তখন এরদোয়ান চাইছেন সিরিয়াকে আরও শক্তিশালী এবং দামেস্কে নিজের আধিপত্য আরও জোরালো করতে। তবে এই খেলায় এরদোয়ানের সামনে বড় বাধা কুর্দিরা। এরদোয়ান যে কুর্দিদের দমাতে চাইছেন, সেই কুর্দিদের পক্ষেই আওয়াজ উঠছে তেল-আবিবে।

তুরস্কের সীমান্তবর্তী সিরিয়ার কুর্দিশাসিত অঞ্চলে নতুন একটি রাষ্ট্র গঠনের দাবি দীর্ঘদিনের। কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এই দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন এবং অস্ত্র ও পায় তারা। তবে এরদোয়ান এটাকে তুরস্কের জন্য বড় হুমকি মনে করেন।

সিরিয়ায় আসাদের পতনের পর এরই মধ্যে মার্কিন বাহিনীর ছত্রছায়ায় থাকা কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠী এসডিএফের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে তুরস্ক। এসডিএফকে নিশ্চিহ্ন করতে এসএনএ ফ্রি লাইসেন্স দিয়েছে আঙ্কারা। আর এই প্রেক্ষিতে ইসরায়েল যখন এসডিএফ কে সমর্থন দিতে যাচ্ছে তখন দুই দেশের সেনাদের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইসরায়েলি একজন অধ্যাপক এফ্রাত আভিভের মন্তব্য প্রকাশ করেছে জেরুজালেম পোস্ট। সেখানে তিনি বলেছেন, এক দশকের বেশি সময় ধরে তেল আবিব ও আঙ্কারার সম্পর্কে তিক্ততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কয়েক দফা কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতি প্রশমন করেছে দুই দেশ। কিন্তু তুরস্ক এখন ইসরায়েলের দরজায় পৌঁছে যাওয়ায় আঙ্কারা- তেল আবিবের সম্পর্কে আবারও অবনতি ঘটতে পারে।

কেকে

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে সুন্দরবন রক্ষায় ইনসাফের মানববন্ধন, উত্থাপন ১০ দফা দাবি

নেতানিয়াহুর জন্য হুমকি এরদোয়ানের

আপডেট সময় : ০৯:৫৯:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৫

গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে সম্পর্কের চূড়ান্ত অবনতি ঘটে। দফায় দফায় উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেন এরদোয়ান ও নেতানিয়াহু। এমনকি ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্নও করে তুরস্ক। তবে শক্তিশালী দেশদুটি কখনো সরাসরি সংঘাতে না জড়ালেও এবার সেই শঙ্কাই তৈরি হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল।

ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি বলছে, সিরিয়া ইস্যুতে এখন মুখোমুখী দাঁড়িয়ে আছেন এরদোয়ান ও নেতানিয়াহু। বাশার আল আসাদের পতনের পর দামেস্কের ক্ষমতা এখন বিদ্রোহীদের হাতে। তুরস্ক সেখানে নিজের একক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চাচ্ছে, যাকে নিজ স্বার্থের জন্য বড় হুমকি মনে করছে তেল আবিব।

গেল মাসে বাশার আল আসাদের পতনের ঘটে বিদ্রোহীদের হাতে। হায়াত তাহরির আল শামের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীদের এই অভিযানে মদত জুগিয়েছে তুরস্ক। এরদোয়ানের ছকে বাশার আসাদ যখন দৃষ্টিসীমার বাইরে তখনই আবির্ভাব ঘটে ইসরায়েলের। সুযোগ বুঝে সিরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত অঞ্চল কব্জায় নেয় নেতানিয়াহুর বাহিনী। এরপরই ঘটে আসল বিপত্তি।

একদিকে ইসরায়েল যখন সিরিয়াকে দুর্বল করতে চাইছে, ঠিক তখন এরদোয়ান চাইছেন সিরিয়াকে আরও শক্তিশালী এবং দামেস্কে নিজের আধিপত্য আরও জোরালো করতে। তবে এই খেলায় এরদোয়ানের সামনে বড় বাধা কুর্দিরা। এরদোয়ান যে কুর্দিদের দমাতে চাইছেন, সেই কুর্দিদের পক্ষেই আওয়াজ উঠছে তেল-আবিবে।

তুরস্কের সীমান্তবর্তী সিরিয়ার কুর্দিশাসিত অঞ্চলে নতুন একটি রাষ্ট্র গঠনের দাবি দীর্ঘদিনের। কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এই দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন এবং অস্ত্র ও পায় তারা। তবে এরদোয়ান এটাকে তুরস্কের জন্য বড় হুমকি মনে করেন।

সিরিয়ায় আসাদের পতনের পর এরই মধ্যে মার্কিন বাহিনীর ছত্রছায়ায় থাকা কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠী এসডিএফের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে তুরস্ক। এসডিএফকে নিশ্চিহ্ন করতে এসএনএ ফ্রি লাইসেন্স দিয়েছে আঙ্কারা। আর এই প্রেক্ষিতে ইসরায়েল যখন এসডিএফ কে সমর্থন দিতে যাচ্ছে তখন দুই দেশের সেনাদের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইসরায়েলি একজন অধ্যাপক এফ্রাত আভিভের মন্তব্য প্রকাশ করেছে জেরুজালেম পোস্ট। সেখানে তিনি বলেছেন, এক দশকের বেশি সময় ধরে তেল আবিব ও আঙ্কারার সম্পর্কে তিক্ততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কয়েক দফা কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতি প্রশমন করেছে দুই দেশ। কিন্তু তুরস্ক এখন ইসরায়েলের দরজায় পৌঁছে যাওয়ায় আঙ্কারা- তেল আবিবের সম্পর্কে আবারও অবনতি ঘটতে পারে।

কেকে