ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৫, ২৬ পৌষ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশের সব মাঠ-পার্ক ও উদ্যান জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি গ্রিন ভয়েসের তুরস্ককে বাংলাদেশে শিল্প স্থানান্তরের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টা ডা. মুহাম্মদ ইউনূসের ঢাকা কলেজে ‘পরিবর্তনের ছাত্র রাজনীতি’ ‍সংলাপ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণ শুরু হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শীতকালীন বইমেলা আকুর আমদানি বিল পরিশোধের পর কমলো দেশের রিজার্ভ সতিকসাসের সদস্য তামিমের মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়ার আয়োজন ঝালকাঠি রাজাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদককে শোকজ বিশ্বের সবথেকে বিখ্যাত চিত্রকর্ম,কিন্তু কেন? মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিচারের মুখোমুখি করার হুঁশিয়ারি নাটোরে ট্রাকসহ গরু চোর আটক

সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার আমান আযমীর বরখাস্তের আদেশ বাতিল

ছবিঃ সংগৃহীত

গুম হওয়ার দীর্ঘ ৮ বছর পর গত ৭ আগস্ট বাড়ি ফিরেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির প্রয়াত গোলাম আজমের মেজো ছেলে সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী। ২৯১৭ দিন কীভাবে কেটেছে আয়না ঘরে তার কিছু বর্ণনা পরিবারের সঙ্গে দিয়েছিলেন সাবেক এ সেনা কর্মকর্তা। শেষ পর্যন্ত সুখবর পেয়েছেন আযমী।

শুক্রবার বিকেলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আযমীর বরখাস্তের আদেশ বাতিল করা হয়েছে।

আইএসপিআর জানায়, গত ২৪ ডিসেম্বর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমীকে তার বরখাস্তের আদেশ প্রমার্জনা করে বরখাস্তের পরিবর্তে ২০০৯ সালের ২৪ জুন থেকে ভূতাপেক্ষভাবে ‘অকালীন (বাধ্যতামূলক) অবসর’ প্রদান করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিগত ২০০৯ সালের ২৪ জুন থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমীকে প্রযোজ্য সব ধরনের আর্থিক ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধাসহ ‘অকালীন (বাধ্যতামূলক) অবসর’ প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইতোপূর্বে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ২০০৯ সালের ২৩ জুন তারিখে জারি করা তার বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হয়েছে।

২০১৬ সালের ২২ আগস্ট দিবাগত রাতে আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে তুলে নেওয়া হয়। সে সময় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০১৬ সালের ২২ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাজধানীর বড় মগবাজারের বাসা থেকে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে তাকে আটক করা হয়।

পরে আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে সেনাবাহিনী থেকে বাধ্যতামূলক অব্যাহতি দেয় আওয়ামী লীগ সরকার। তবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আটকের বিষয়টি একাধিকবার দাবি করা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়।

গত ৭ আগস্ট মুক্তির পর আয়না ঘরে ২৯১৭ দিন কীভাবে কেটেছে তার- কিছু বর্ণনা পরিবারের সঙ্গে দিয়েছেন সাবেক এ সেনাকর্মকর্তা। তার ব্যাগে থাকা একটি গামছা বের করে বলেন, এ গামছাটি আমি নিয়েছিলাম নামাজ পড়ার জন্য; কিন্তু এটা দিয়ে যে পরিমাণ চোখের পানি আমি মুছেছি তা দিয়ে একটি দিঘি বানানো যেত।

তার ব্যাগে থাকা পবিত্র কুরআন খুলে দেখিয়ে তিনি বলেন, ৮ বছর এ কুরআন পড়েছি। এটা অনেক ছিড়ে গেছে। এটাই অনেক জোড়া-তালি নিজেই দিয়েছি।

এ সময় কুরআনের অনুবাদের কিছু ভুল রয়েছে জানিয়ে বলেন, এটা ক্ষমার অযোগ্য। কুরআনের অনেক আয়াতের অনুবাদে ভুল অনুবাদ করা হয়েছে। এ সময় তিনি নোট করে রাখেন বলে জানান পরিবারের সদস্যদের।

কেকে

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের সব মাঠ-পার্ক ও উদ্যান জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি গ্রিন ভয়েসের

সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার আমান আযমীর বরখাস্তের আদেশ বাতিল

আপডেট সময় : ০৫:৫১:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪

গুম হওয়ার দীর্ঘ ৮ বছর পর গত ৭ আগস্ট বাড়ি ফিরেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির প্রয়াত গোলাম আজমের মেজো ছেলে সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী। ২৯১৭ দিন কীভাবে কেটেছে আয়না ঘরে তার কিছু বর্ণনা পরিবারের সঙ্গে দিয়েছিলেন সাবেক এ সেনা কর্মকর্তা। শেষ পর্যন্ত সুখবর পেয়েছেন আযমী।

শুক্রবার বিকেলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আযমীর বরখাস্তের আদেশ বাতিল করা হয়েছে।

আইএসপিআর জানায়, গত ২৪ ডিসেম্বর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমীকে তার বরখাস্তের আদেশ প্রমার্জনা করে বরখাস্তের পরিবর্তে ২০০৯ সালের ২৪ জুন থেকে ভূতাপেক্ষভাবে ‘অকালীন (বাধ্যতামূলক) অবসর’ প্রদান করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিগত ২০০৯ সালের ২৪ জুন থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমীকে প্রযোজ্য সব ধরনের আর্থিক ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধাসহ ‘অকালীন (বাধ্যতামূলক) অবসর’ প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইতোপূর্বে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ২০০৯ সালের ২৩ জুন তারিখে জারি করা তার বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হয়েছে।

২০১৬ সালের ২২ আগস্ট দিবাগত রাতে আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে তুলে নেওয়া হয়। সে সময় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০১৬ সালের ২২ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাজধানীর বড় মগবাজারের বাসা থেকে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে তাকে আটক করা হয়।

পরে আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে সেনাবাহিনী থেকে বাধ্যতামূলক অব্যাহতি দেয় আওয়ামী লীগ সরকার। তবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আটকের বিষয়টি একাধিকবার দাবি করা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়।

গত ৭ আগস্ট মুক্তির পর আয়না ঘরে ২৯১৭ দিন কীভাবে কেটেছে তার- কিছু বর্ণনা পরিবারের সঙ্গে দিয়েছেন সাবেক এ সেনাকর্মকর্তা। তার ব্যাগে থাকা একটি গামছা বের করে বলেন, এ গামছাটি আমি নিয়েছিলাম নামাজ পড়ার জন্য; কিন্তু এটা দিয়ে যে পরিমাণ চোখের পানি আমি মুছেছি তা দিয়ে একটি দিঘি বানানো যেত।

তার ব্যাগে থাকা পবিত্র কুরআন খুলে দেখিয়ে তিনি বলেন, ৮ বছর এ কুরআন পড়েছি। এটা অনেক ছিড়ে গেছে। এটাই অনেক জোড়া-তালি নিজেই দিয়েছি।

এ সময় কুরআনের অনুবাদের কিছু ভুল রয়েছে জানিয়ে বলেন, এটা ক্ষমার অযোগ্য। কুরআনের অনেক আয়াতের অনুবাদে ভুল অনুবাদ করা হয়েছে। এ সময় তিনি নোট করে রাখেন বলে জানান পরিবারের সদস্যদের।

কেকে