ঢাকা ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে বাগেরহাট-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন নারী হেনস্থার প্রতিবাদে বাগেরহাটে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল কড়াইল ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে হাসি ফোঁটাও ফাউন্ডেশন পথশিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ করল হাসি ফোঁটাও ফাউন্ডেশন ‎বাগেরহাটের ৪টি আসনের রিট নিয়ে নতুন বার্তা জেলা জামায়াত আমীরের‎ ঢাকা আলিয়ার স্বাস্থ্যকর ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে শিবিরের পরিচ্ছন্নতা অভিযান নোয়াখালীতে হামলার প্রতিবাদে বাগেরহাট পি.সি. কলেজে কোরআন বিতরণ বাগেরহাটে মাদ্রাসার গভর্নিং কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হুমকি-ধামকি ও মারধর সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার ফিকহ বিভাগে সাফল্যের জোয়ার শরীয়তপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে হেযবুত তাওহীদের মতবিনিময় সভা

লালবাগ কেল্লায় তিতুমীরের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সফর

ছবি : সংগৃহীত

মো: শফিক খান,তিতুমীর ক্যাম্পাস প্রতিনিধি:

ঢাকা শহরের ঐতিহাসিক নিদর্শন লালবাগ কেল্লায় অনুষ্ঠিত হলো সরকারি তিতুমীর কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষামূলক সফর। বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বাস্তব চিত্র অনুধাবনের লক্ষ্যে আয়োজিত এ সফরে অংশ নেয় বিভাগের অনার্স ৩য় ও ৪র্থ বর্ষের প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী ও ৫ জন শিক্ষক।

আজ মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ‘অগ্নিবীণা’ পরিবহনের একটি বাসে শিক্ষার্থীরা লালবাগ কেল্লার উদ্দেশ্যে রওনা হন। কেল্লায় পৌঁছে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে ঘুরে দেখেন ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো। দর্শন করেন মুঘল আমলের শাসক শায়েস্তা খানের আমলে নির্মিত স্থাপত্য, পরী বিবির সমাধি, হামামখানা, তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ ও অন্যান্য নিদর্শন।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর বর্ণনা তুলে ধরেন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আলফাজ উদ্দিন। তিনি জানান, “লালবাগ কেল্লার প্রতিটি অংশে ইতিহাসের ছাপ রয়েছে। কোন শাসকের আমলে, কোন ধরনের উপকরণ ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছে, কী কী উদ্দেশ্যে এগুলো ব্যবহৃত হতো—এসব বিষয় শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।”

এ সময় বিভাগের অধ্যাপক ছালেহ উদ্দিন শেখ বলেন, “লালবাগ কেল্লা শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি আমাদের ইতিহাসের জীবন্ত দলিল। পাঠ্যবইয়ের বাইরেও শিক্ষার্থীরা আজ বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছে।”

সফরে অংশ নেওয়া ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী রিয়াজ বলেন, “আমরা লালবাগ কেল্লার ইতিহাস বইয়ে পড়েছি। কিন্তু সরাসরি দেখে শেখার অনুভূতি একেবারেই আলাদা। শিক্ষকরা প্রতিটি স্থাপত্য বিশ্লেষণ করে যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, তা ছিল অসাধারণ অভিজ্ঞতা।”

দুপুরে কেল্লার একটি উন্মুক্ত স্থানে শিক্ষার্থীদের জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী সফর শেষে বিকেল আড়াইটায় সবাই ক্যাম্পাসে ফিরে আসে।

সফর প্রসঙ্গে শিক্ষকরা বলেন, “এ ধরনের শিক্ষা সফর শিক্ষার্থীদের মেধা ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি দেশপ্রেম জাগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

উল্লেখ্য, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘মুসলিম প্রত্নতত্ত্ব ও স্থাপত্য’ এবং ‘মুসলিম চিত্র ও শিল্পকলা বিকাশ’ কোর্সে লালবাগ কেল্লা একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ্য বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতি বছরই এ বিষয়ে পরীক্ষায় প্রশ্ন এসে থাকে। তাই বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এ সফর শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ।

এমএস

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে বাগেরহাট-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন

লালবাগ কেল্লায় তিতুমীরের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সফর

আপডেট সময় : ১১:২৩:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫

মো: শফিক খান,তিতুমীর ক্যাম্পাস প্রতিনিধি:

ঢাকা শহরের ঐতিহাসিক নিদর্শন লালবাগ কেল্লায় অনুষ্ঠিত হলো সরকারি তিতুমীর কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষামূলক সফর। বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বাস্তব চিত্র অনুধাবনের লক্ষ্যে আয়োজিত এ সফরে অংশ নেয় বিভাগের অনার্স ৩য় ও ৪র্থ বর্ষের প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী ও ৫ জন শিক্ষক।

আজ মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ‘অগ্নিবীণা’ পরিবহনের একটি বাসে শিক্ষার্থীরা লালবাগ কেল্লার উদ্দেশ্যে রওনা হন। কেল্লায় পৌঁছে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে ঘুরে দেখেন ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো। দর্শন করেন মুঘল আমলের শাসক শায়েস্তা খানের আমলে নির্মিত স্থাপত্য, পরী বিবির সমাধি, হামামখানা, তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ ও অন্যান্য নিদর্শন।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর বর্ণনা তুলে ধরেন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আলফাজ উদ্দিন। তিনি জানান, “লালবাগ কেল্লার প্রতিটি অংশে ইতিহাসের ছাপ রয়েছে। কোন শাসকের আমলে, কোন ধরনের উপকরণ ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছে, কী কী উদ্দেশ্যে এগুলো ব্যবহৃত হতো—এসব বিষয় শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।”

এ সময় বিভাগের অধ্যাপক ছালেহ উদ্দিন শেখ বলেন, “লালবাগ কেল্লা শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি আমাদের ইতিহাসের জীবন্ত দলিল। পাঠ্যবইয়ের বাইরেও শিক্ষার্থীরা আজ বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছে।”

সফরে অংশ নেওয়া ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী রিয়াজ বলেন, “আমরা লালবাগ কেল্লার ইতিহাস বইয়ে পড়েছি। কিন্তু সরাসরি দেখে শেখার অনুভূতি একেবারেই আলাদা। শিক্ষকরা প্রতিটি স্থাপত্য বিশ্লেষণ করে যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, তা ছিল অসাধারণ অভিজ্ঞতা।”

দুপুরে কেল্লার একটি উন্মুক্ত স্থানে শিক্ষার্থীদের জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী সফর শেষে বিকেল আড়াইটায় সবাই ক্যাম্পাসে ফিরে আসে।

সফর প্রসঙ্গে শিক্ষকরা বলেন, “এ ধরনের শিক্ষা সফর শিক্ষার্থীদের মেধা ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি দেশপ্রেম জাগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

উল্লেখ্য, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘মুসলিম প্রত্নতত্ত্ব ও স্থাপত্য’ এবং ‘মুসলিম চিত্র ও শিল্পকলা বিকাশ’ কোর্সে লালবাগ কেল্লা একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ্য বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতি বছরই এ বিষয়ে পরীক্ষায় প্রশ্ন এসে থাকে। তাই বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এ সফর শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ।

এমএস