ঢাকা ০৭:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে সুন্দরবন রক্ষায় ইনসাফের মানববন্ধন, উত্থাপন ১০ দফা দাবি এনডিইউবি ইংরেজি বিভাগে শেকসপিয়ার দিবস উদযাপন তিতুমীর কলেজে সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত  মিঠামইনে শতদল ক্লাবের বর্ণাঢ্য ঈদ পুনর্মিলনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত কচুয়ায় পানের বরজে দুর্বৃত্তদের আগুন: ৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি, নিঃস্ব কৃষক বদর দিবস উপলক্ষে ইনসাফের কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে বাগেরহাট-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন নারী হেনস্থার প্রতিবাদে বাগেরহাটে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল কড়াইল ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে হাসি ফোঁটাও ফাউন্ডেশন পথশিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ করল হাসি ফোঁটাও ফাউন্ডেশন

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নির্ধারণ: ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ১৯% শুল্ক, ভিয়েতনাম চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার সাথে একটি বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন করেছে, যার ফলে ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানিকৃত পণ্যের উপর ১৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এই চুক্তির আওতায় ইন্দোনেশিয়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি, কৃষি পণ্য এবং বিমান ক্রয়ের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার তার ট্রুথ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এই ঘোষণা দেন। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্টোর সাথে আলোচনার পর এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়। ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, উচ্চ শুল্ক এড়াতে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন করলে সেই সকল পণ্যের উপর আরও কঠোর শুল্ক প্রযোজ্য হবে।

চুক্তির প্রধান শর্তসমূহ:

১. ইন্দোনেশিয়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের জ্বালানি (প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লা) ক্রয় করবে

২. ৪.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন কৃষি পণ্য আমদানি করবে

৩. বোয়িং কোম্পানির ৫০টি যাত্রীবাহী বিমান ক্রয় করবে, যার অধিকাংশই বোয়িং ৭৭৭ মডেলের

ট্রাম্প এই চুক্তিকে ‘সকল পক্ষের জন্য লাভজনক’ বলে আখ্যায়িত করেন। তবে এই শুল্ক কখন থেকে কার্যকর হবে অথবা ক্রয় প্রক্রিয়া কতদিনে সম্পন্ন হবে সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রদান করা হয়নি।

ভিয়েতনাম চুক্তি প্রায় নিশ্চিত

অন্যদিকে ভিয়েতনামের সাথে সম্পাদিত পূর্ববর্তী বাণিজ্য চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে ট্রাম্প মঙ্গলবার জানান। গত সপ্তাহে ভিয়েতনামের সাথে প্রাথমিক চুক্তি ঘোষণা করা হলেও চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলী, বিশেষ করে অবৈধ পণ্য পরিবহন কীভাবে শনাক্ত করা হবে সে সম্পর্কে এখনও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ট্রাম্প জানান যে শীঘ্রই ছোট ছোট দেশগুলোকে তাদের নতুন শুল্ক হার সম্পর্কে অবহিত করা হবে, যা সম্ভবত ১০ শতাংশের কিছু বেশি হবে।

শুল্ক নীতিতে কঠোর অবস্থান

গত এপ্রিল মাসে ট্রাম্প প্রায় সকল বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইন্দোনেশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশের জন্য এই হার বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। গত সপ্তাহে তিনি শুল্ক বৃদ্ধির সময়সীমা ৯ জুলাই থেকে পিছিয়ে ১ আগস্ট নির্ধারণ করেন। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দের কাছে চিঠি প্রেরণ করে আগস্ট মাস থেকে প্রযোজ্য শুল্ক হার সম্পর্কে অবহিত করছেন। ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং মালয়েশিয়াসহ ২০টিরও বেশি দেশকে এ ধরনের চিঠি পাঠানো হয়েছে।

তবে বাণিজ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের লক্ষ্য থেকে এখনও পিছিয়ে রয়েছে – এপ্রিল মাসে ৯০ দিনের মধ্যে ৯০টি চুক্তি সম্পাদনের ঘোষণা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কেবল যুক্তরাজ্য, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার সাথে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, পাশাপাশি চীনের সাথে অস্থায়ী শুল্ক হ্রাস সংক্রান্ত সমঝোতা হয়েছে।

ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং আরও বেশ কয়েকটি চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়া চলমান আছে।

কেকে

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে সুন্দরবন রক্ষায় ইনসাফের মানববন্ধন, উত্থাপন ১০ দফা দাবি

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নির্ধারণ: ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ১৯% শুল্ক, ভিয়েতনাম চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত

আপডেট সময় : ১১:১১:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার সাথে একটি বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন করেছে, যার ফলে ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানিকৃত পণ্যের উপর ১৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এই চুক্তির আওতায় ইন্দোনেশিয়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি, কৃষি পণ্য এবং বিমান ক্রয়ের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার তার ট্রুথ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এই ঘোষণা দেন। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্টোর সাথে আলোচনার পর এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়। ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, উচ্চ শুল্ক এড়াতে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন করলে সেই সকল পণ্যের উপর আরও কঠোর শুল্ক প্রযোজ্য হবে।

চুক্তির প্রধান শর্তসমূহ:

১. ইন্দোনেশিয়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের জ্বালানি (প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লা) ক্রয় করবে

২. ৪.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন কৃষি পণ্য আমদানি করবে

৩. বোয়িং কোম্পানির ৫০টি যাত্রীবাহী বিমান ক্রয় করবে, যার অধিকাংশই বোয়িং ৭৭৭ মডেলের

ট্রাম্প এই চুক্তিকে ‘সকল পক্ষের জন্য লাভজনক’ বলে আখ্যায়িত করেন। তবে এই শুল্ক কখন থেকে কার্যকর হবে অথবা ক্রয় প্রক্রিয়া কতদিনে সম্পন্ন হবে সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রদান করা হয়নি।

ভিয়েতনাম চুক্তি প্রায় নিশ্চিত

অন্যদিকে ভিয়েতনামের সাথে সম্পাদিত পূর্ববর্তী বাণিজ্য চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে ট্রাম্প মঙ্গলবার জানান। গত সপ্তাহে ভিয়েতনামের সাথে প্রাথমিক চুক্তি ঘোষণা করা হলেও চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলী, বিশেষ করে অবৈধ পণ্য পরিবহন কীভাবে শনাক্ত করা হবে সে সম্পর্কে এখনও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ট্রাম্প জানান যে শীঘ্রই ছোট ছোট দেশগুলোকে তাদের নতুন শুল্ক হার সম্পর্কে অবহিত করা হবে, যা সম্ভবত ১০ শতাংশের কিছু বেশি হবে।

শুল্ক নীতিতে কঠোর অবস্থান

গত এপ্রিল মাসে ট্রাম্প প্রায় সকল বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইন্দোনেশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশের জন্য এই হার বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। গত সপ্তাহে তিনি শুল্ক বৃদ্ধির সময়সীমা ৯ জুলাই থেকে পিছিয়ে ১ আগস্ট নির্ধারণ করেন। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দের কাছে চিঠি প্রেরণ করে আগস্ট মাস থেকে প্রযোজ্য শুল্ক হার সম্পর্কে অবহিত করছেন। ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং মালয়েশিয়াসহ ২০টিরও বেশি দেশকে এ ধরনের চিঠি পাঠানো হয়েছে।

তবে বাণিজ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের লক্ষ্য থেকে এখনও পিছিয়ে রয়েছে – এপ্রিল মাসে ৯০ দিনের মধ্যে ৯০টি চুক্তি সম্পাদনের ঘোষণা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কেবল যুক্তরাজ্য, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার সাথে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, পাশাপাশি চীনের সাথে অস্থায়ী শুল্ক হ্রাস সংক্রান্ত সমঝোতা হয়েছে।

ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং আরও বেশ কয়েকটি চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়া চলমান আছে।

কেকে