ঢাকা ০৭:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ডাকসু নেতা বেলাল হোসাইন অপুর উদ্যোগে ‘MindBridge’ কাউন্সেলিং কর্মশালা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে মোঃ বেলাল হোসাইন অপুর উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, সেবা নিলেন প্রায় ৭০০ মানুষ বাবার মৃত্যুতে পরীক্ষার আগের দিনই কাজ, সেই শিক্ষার্থীর পাশে ডাকসু নেতা বেলাল হোসাইন অপু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পিডিবিএফ কর্মচারী ইউনিয়নের সম্পাদক তাপস কুমার রায় বিশ্ব পরিবেশ দিবসে সুন্দরবন রক্ষায় ইনসাফের মানববন্ধন, উত্থাপন ১০ দফা দাবি এনডিইউবি ইংরেজি বিভাগে শেকসপিয়ার দিবস উদযাপন তিতুমীর কলেজে সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত  মিঠামইনে শতদল ক্লাবের বর্ণাঢ্য ঈদ পুনর্মিলনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত কচুয়ায় পানের বরজে দুর্বৃত্তদের আগুন: ৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি, নিঃস্ব কৃষক বদর দিবস উপলক্ষে ইনসাফের কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

যেইসব পানীয়গুলো শরীরের লিভারের ক্ষতি করে

ছবিঃ সংগৃহীত

লিভার হলো শরীরের অন্যতম কঠোর পরিশ্রমী অঙ্গ। এটি অক্লান্তভাবে টক্সিন ফিল্টার করে, চর্বি বিপাক করে এবং হজমে সহায়তা করে। যদিও আমরা ভাবতে পারি যে আমাদের পছন্দের পানীয়গুলো ক্ষতিকারক নয়, তবে কিছু জনপ্রিয় পানীয় ধীরে ধীরে লিভারের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। কিছু পানীয় আছে যেগুলো নিয়মিত পান করলে তা লিভারের ক্ষতির কারণ হতে পারে, বিশেষ করে চর্বি তৈরি, প্রদাহ বা লিভারের রোগ বাড়িয়ে দেয়। চলুন জেনে নেওয়ায যাক এমন ৪টি পানীয় সম্পর্কে-

কোল্ড ড্রিংক লিভারের ক্ষতির সবচেয়ে সাধারণ উৎসগুলোর মধ্যে একটি। কানাডিয়ান জার্নাল অফ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড হেপাটোলজিতে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, নিয়মিত কোমল পানীয় পান করলে তা ফ্যাটি লিভারের সমস্যা বাড়িয়ে তোলে। এটি নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD) নামে পরিচিত, যেখানে চর্বি যকৃতে জমা হয়, এর কার্যকারিতা নষ্ট করে এবং প্রদাহ বৃদ্ধি করে। কোল্ড ড্রিংকে থাকা অতিরিক্ত চিনি এবং কৃত্রিম সংযোজন লিভারকে চাপ দেয়, যার ফলে চর্বি জমে। যা ধীরে ধীরে লিভারের গুরুতর জটিলতায় পরিণত হতে পারে।

অনেকেই দ্রুত শক্তি পেতে এনার্জি ড্রিংকসের দিকে ঝুঁকে পড়ে, কিন্তু এগুলো উপকারের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর হতে পারে। ইউএস ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেডিসিন স্টাডি অনুসারে, লিভারের তীব্র আঘাত অত্যধিক এনার্জি ড্রিংক ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত। টরিন, ক্যাফিন এবং অন্যান্য উদ্দীপকের উচ্চ মাত্রার মতো উপাদান ভেঙে ফেলার জন্য লিভারকে অতিরিক্ত কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। অত্যধিক সেবন কিছু পরিস্থিতিতে লিভার ফেইলরের কারণ হিসেবে পরিচিত, কারও কারও ক্ষেত্রে লিভার প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়।

অ্যালকোহল বিশ্বব্যাপী লিভারের ক্ষতির অন্যতম প্রধান কারণ হিসাবে রয়েছে। জন হপকিন্স মেডিসিন হাইলাইট করে যে অ্যালকোহল-সম্পর্কিত লিভারের রোগ দেখা দেয় যখন ভারী মদ্যপান লিভারের অ্যালকোহল প্রক্রিয়া করার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে, যার ফলে প্রদাহ এবং অবশেষে লিভার ফেইলিওর হয়। ধীরে ধীরে অত্যধিক অ্যালকোহল সেবন ফ্যাটি লিভার, অ্যালকোহলযুক্ত হেপাটাইটিস এবং সিরোসিসের মতো অবস্থার কারণ হতে পারে।

মিষ্টি পানীয় যেমন স্বাদযুক্ত চা, কৃত্রিম জুস ইত্যাদিতে অতিরিক্ত চিনি যোগ করা থাকে। এই শর্করা, বিশেষ করে তরল আকারে থাকলে তা দ্রুত শোষিত হয় এবং লিভারকে ওভারলোড করতে পারে। যখন চিনি বিপাক হয়, তখন এটি চর্বিতে পরিণত হয়, যা লিভারে জমা হতে পারে এবং কোল্ড ড্রিংকের প্রভাবের মতো এনএএফএলডি হতে পারে। ফলে ধীরে ধীরে লিভার স্ফীত হতে পারে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে ফাইব্রোসিস বা সিরোসিস হতে পারে। চিনিযুক্ত পানীয় পান সীমিত করে লিভারের চাপ প্রতিরোধ এবং সর্বোত্তম স্বাস্থ্য বজায় রাখা সম্ভব।

নিহাদ সাজিদ/এমএস

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ডাকসু নেতা বেলাল হোসাইন অপুর উদ্যোগে ‘MindBridge’ কাউন্সেলিং কর্মশালা অনুষ্ঠিত

যেইসব পানীয়গুলো শরীরের লিভারের ক্ষতি করে

আপডেট সময় : ০৫:৪১:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৪

লিভার হলো শরীরের অন্যতম কঠোর পরিশ্রমী অঙ্গ। এটি অক্লান্তভাবে টক্সিন ফিল্টার করে, চর্বি বিপাক করে এবং হজমে সহায়তা করে। যদিও আমরা ভাবতে পারি যে আমাদের পছন্দের পানীয়গুলো ক্ষতিকারক নয়, তবে কিছু জনপ্রিয় পানীয় ধীরে ধীরে লিভারের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। কিছু পানীয় আছে যেগুলো নিয়মিত পান করলে তা লিভারের ক্ষতির কারণ হতে পারে, বিশেষ করে চর্বি তৈরি, প্রদাহ বা লিভারের রোগ বাড়িয়ে দেয়। চলুন জেনে নেওয়ায যাক এমন ৪টি পানীয় সম্পর্কে-

কোল্ড ড্রিংক লিভারের ক্ষতির সবচেয়ে সাধারণ উৎসগুলোর মধ্যে একটি। কানাডিয়ান জার্নাল অফ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড হেপাটোলজিতে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, নিয়মিত কোমল পানীয় পান করলে তা ফ্যাটি লিভারের সমস্যা বাড়িয়ে তোলে। এটি নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD) নামে পরিচিত, যেখানে চর্বি যকৃতে জমা হয়, এর কার্যকারিতা নষ্ট করে এবং প্রদাহ বৃদ্ধি করে। কোল্ড ড্রিংকে থাকা অতিরিক্ত চিনি এবং কৃত্রিম সংযোজন লিভারকে চাপ দেয়, যার ফলে চর্বি জমে। যা ধীরে ধীরে লিভারের গুরুতর জটিলতায় পরিণত হতে পারে।

অনেকেই দ্রুত শক্তি পেতে এনার্জি ড্রিংকসের দিকে ঝুঁকে পড়ে, কিন্তু এগুলো উপকারের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর হতে পারে। ইউএস ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেডিসিন স্টাডি অনুসারে, লিভারের তীব্র আঘাত অত্যধিক এনার্জি ড্রিংক ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত। টরিন, ক্যাফিন এবং অন্যান্য উদ্দীপকের উচ্চ মাত্রার মতো উপাদান ভেঙে ফেলার জন্য লিভারকে অতিরিক্ত কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। অত্যধিক সেবন কিছু পরিস্থিতিতে লিভার ফেইলরের কারণ হিসেবে পরিচিত, কারও কারও ক্ষেত্রে লিভার প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়।

অ্যালকোহল বিশ্বব্যাপী লিভারের ক্ষতির অন্যতম প্রধান কারণ হিসাবে রয়েছে। জন হপকিন্স মেডিসিন হাইলাইট করে যে অ্যালকোহল-সম্পর্কিত লিভারের রোগ দেখা দেয় যখন ভারী মদ্যপান লিভারের অ্যালকোহল প্রক্রিয়া করার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে, যার ফলে প্রদাহ এবং অবশেষে লিভার ফেইলিওর হয়। ধীরে ধীরে অত্যধিক অ্যালকোহল সেবন ফ্যাটি লিভার, অ্যালকোহলযুক্ত হেপাটাইটিস এবং সিরোসিসের মতো অবস্থার কারণ হতে পারে।

মিষ্টি পানীয় যেমন স্বাদযুক্ত চা, কৃত্রিম জুস ইত্যাদিতে অতিরিক্ত চিনি যোগ করা থাকে। এই শর্করা, বিশেষ করে তরল আকারে থাকলে তা দ্রুত শোষিত হয় এবং লিভারকে ওভারলোড করতে পারে। যখন চিনি বিপাক হয়, তখন এটি চর্বিতে পরিণত হয়, যা লিভারে জমা হতে পারে এবং কোল্ড ড্রিংকের প্রভাবের মতো এনএএফএলডি হতে পারে। ফলে ধীরে ধীরে লিভার স্ফীত হতে পারে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে ফাইব্রোসিস বা সিরোসিস হতে পারে। চিনিযুক্ত পানীয় পান সীমিত করে লিভারের চাপ প্রতিরোধ এবং সর্বোত্তম স্বাস্থ্য বজায় রাখা সম্ভব।

নিহাদ সাজিদ/এমএস