ঢাকা ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বদর দিবস উপলক্ষে ইনসাফের কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে বাগেরহাট-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন নারী হেনস্থার প্রতিবাদে বাগেরহাটে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল কড়াইল ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে হাসি ফোঁটাও ফাউন্ডেশন পথশিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ করল হাসি ফোঁটাও ফাউন্ডেশন ‎বাগেরহাটের ৪টি আসনের রিট নিয়ে নতুন বার্তা জেলা জামায়াত আমীরের‎ ঢাকা আলিয়ার স্বাস্থ্যকর ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে শিবিরের পরিচ্ছন্নতা অভিযান নোয়াখালীতে হামলার প্রতিবাদে বাগেরহাট পি.সি. কলেজে কোরআন বিতরণ বাগেরহাটে মাদ্রাসার গভর্নিং কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হুমকি-ধামকি ও মারধর সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার ফিকহ বিভাগে সাফল্যের জোয়ার

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতার উপর সন্ত্রাসী স্টাইলে হামলা

ছবি : সংগৃহীত

সরকারি তিতুমীর কলেজস্থ নাটোর জেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের ইফতার মাহফিলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হামলার শিকার হয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর সানি।

শনিবার (১৫ মার্চ) বিকেল ৩টার দিকে কলেজের গণিত বিভাগের ক্লাস রুমে সামনে তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক খাজা মাইনুদ্দিনের নেতৃত্বে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা হাতুড়ি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জাহাঙ্গীর সানির উপর হামলা চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শী তানজিদ মাহমুদ জানান, দুপুর বেলায় আমি গণিত বিভাগের দিকে গেলে সানি ভাই আমাকে ডাক দেন। আমি সেখানে গিয়ে বসার কিছুক্ষণ পর দেখি, আবিক এবং খাজা মইনুদ্দিন আসে। তারা এসে বলে, “তোমরা এখানে ইফতার মাহফিল করছ, কার থেকে অনুমতি নিয়েছ?” এ কথা বলে তারা ব্যানার খুলতে যায়। তখন সানি ভাই বাধা দিতে গেলে খাজা তাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে।

হামলার পর আহত জাহাঙ্গীর সানিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক খাজা মাইনুদ্দিন বলেন, “আমরা নাটোর জেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের একটি ইফতার মাহফিল করেছি। কিন্তু আজকে জাহাঙ্গীর সানির নেতৃত্বে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে। আমরা তাদের বাধা দিয়েছি এবং ব্যানার খুলতে গিয়েছিলাম। তখনই জাহাঙ্গীর সানি আমার ওপর হামলা করেছে। সেখানে আমার ছোট ভাই আবিকও উপস্থিত ছিলেন।”

ঘটনার বিষয়টি অস্বীকার করে এবং জাহাঙ্গীর সানির ওপর হামলার সময় উপস্থিত ছিলেন না বলে দাবি করেন আনোয়ার হোসেন আবিক। তিনি বলেন, “তিতুমীর কলেজে নাটোর জেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদ একটাই আছে। আমি আজ ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখতে পাই, নাটোর জেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের নামে ছাত্রলীগের পুনর্বাসন করা হচ্ছে। বাংলা বিভাগ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির সঙ্গে আমার পূর্বের বিরোধ ছিল। আজ তাকে ক্যাম্পাসে পেয়ে আমি থানায় দিতে চাইলে সে আমার ওপর হামলা করে। পরে শুনতে পারি, জাহাঙ্গীর সানি হাতুড়ি নিয়ে খাজা মঈনুদ্দিন ভাইয়ের ওপর হামলা করতে আসে। তখন জাহাঙ্গীর সানির ঘুষিতে খাজা মঈনুদ্দিন আহত হন।”

এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমাম হোসেন বলেন, “এটা তাদের জেলা ছাত্র কল্যাণের বিষয়, এতে ছাত্রদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।” তিনি আরও বলেন, “সংগঠন যদি এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পায়, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বদর দিবস উপলক্ষে ইনসাফের কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতার উপর সন্ত্রাসী স্টাইলে হামলা

আপডেট সময় : ১০:২৯:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ মার্চ ২০২৫

সরকারি তিতুমীর কলেজস্থ নাটোর জেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের ইফতার মাহফিলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হামলার শিকার হয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর সানি।

শনিবার (১৫ মার্চ) বিকেল ৩টার দিকে কলেজের গণিত বিভাগের ক্লাস রুমে সামনে তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক খাজা মাইনুদ্দিনের নেতৃত্বে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা হাতুড়ি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জাহাঙ্গীর সানির উপর হামলা চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শী তানজিদ মাহমুদ জানান, দুপুর বেলায় আমি গণিত বিভাগের দিকে গেলে সানি ভাই আমাকে ডাক দেন। আমি সেখানে গিয়ে বসার কিছুক্ষণ পর দেখি, আবিক এবং খাজা মইনুদ্দিন আসে। তারা এসে বলে, “তোমরা এখানে ইফতার মাহফিল করছ, কার থেকে অনুমতি নিয়েছ?” এ কথা বলে তারা ব্যানার খুলতে যায়। তখন সানি ভাই বাধা দিতে গেলে খাজা তাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে।

হামলার পর আহত জাহাঙ্গীর সানিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক খাজা মাইনুদ্দিন বলেন, “আমরা নাটোর জেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের একটি ইফতার মাহফিল করেছি। কিন্তু আজকে জাহাঙ্গীর সানির নেতৃত্বে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে। আমরা তাদের বাধা দিয়েছি এবং ব্যানার খুলতে গিয়েছিলাম। তখনই জাহাঙ্গীর সানি আমার ওপর হামলা করেছে। সেখানে আমার ছোট ভাই আবিকও উপস্থিত ছিলেন।”

ঘটনার বিষয়টি অস্বীকার করে এবং জাহাঙ্গীর সানির ওপর হামলার সময় উপস্থিত ছিলেন না বলে দাবি করেন আনোয়ার হোসেন আবিক। তিনি বলেন, “তিতুমীর কলেজে নাটোর জেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদ একটাই আছে। আমি আজ ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখতে পাই, নাটোর জেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের নামে ছাত্রলীগের পুনর্বাসন করা হচ্ছে। বাংলা বিভাগ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির সঙ্গে আমার পূর্বের বিরোধ ছিল। আজ তাকে ক্যাম্পাসে পেয়ে আমি থানায় দিতে চাইলে সে আমার ওপর হামলা করে। পরে শুনতে পারি, জাহাঙ্গীর সানি হাতুড়ি নিয়ে খাজা মঈনুদ্দিন ভাইয়ের ওপর হামলা করতে আসে। তখন জাহাঙ্গীর সানির ঘুষিতে খাজা মঈনুদ্দিন আহত হন।”

এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমাম হোসেন বলেন, “এটা তাদের জেলা ছাত্র কল্যাণের বিষয়, এতে ছাত্রদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।” তিনি আরও বলেন, “সংগঠন যদি এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পায়, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”