ঢাকা ১১:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে সুন্দরবন রক্ষায় ইনসাফের মানববন্ধন, উত্থাপন ১০ দফা দাবি এনডিইউবি ইংরেজি বিভাগে শেকসপিয়ার দিবস উদযাপন তিতুমীর কলেজে সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত  মিঠামইনে শতদল ক্লাবের বর্ণাঢ্য ঈদ পুনর্মিলনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত কচুয়ায় পানের বরজে দুর্বৃত্তদের আগুন: ৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি, নিঃস্ব কৃষক বদর দিবস উপলক্ষে ইনসাফের কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে বাগেরহাট-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন নারী হেনস্থার প্রতিবাদে বাগেরহাটে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল কড়াইল ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে হাসি ফোঁটাও ফাউন্ডেশন পথশিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ করল হাসি ফোঁটাও ফাউন্ডেশন

কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা মিলনায়তনে দুদকের এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়

ছবি : সংগৃহীত

দুদক চেয়ারম্যানের সামনে যা বললেন কুমিল্লার ভুক্তভোগীরা। কুমিল্লায় দূর্নীতি দমন কমিশনের উদ্যোগে গণশুনানী অনুষ্ঠিত হয়েছে।কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা মিলনায়তনে দুদকের এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এসময়, সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সেবামূলক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে হয়রানি, দুর্নীতি, অনিয়ম, ঘুষ নেওয়াসহ নানা অভিযোগের তোলেন সেবাগ্রহীতারা। গণশুনানিতে প্রধান অতিথি ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন

সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত চলে দুদকের ওই গণশুনানি। সেখানে বেশ কয়েকটি সরকারি দপ্তরের বিরুদ্ধে প্রায় অর্ধশতাধিক অভিযোগ করেন সেবাগ্রহীতারা । অধিকাংশ অভিযোগ তাৎক্ষণিক সমাধান করা হয়। আর কয়েকটি অভিযোগ অনুসন্ধান করতে দুদককে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এসময় একটি অভিযোগে তাৎক্ষণিক দুদকের মামলা দায়ের করা হয়৷

এসময়, যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়, পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়, নির্বাচন কার্যালয়, বিআরটিএ, কালিরবাজার উচ্চ বিদ্যালয়, ভূমি অফিস, জোনাল সেটেলমেন্ট কার্যালয়, সদর হাসপাতাল, ডিএসবিসহ আরো বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

এসময় গণশুনানীতে বিআরটিএ কুমিল্লার বিরুদ্ধে করা অভিযোগে মালপাড়া চন্ডীপুর এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেন বলেন, আমি লাইসেন্সের ইন্টারভিউ দিয়েছিলাম ২০২০ সালে। আমাকে ২ মাস পরে আসতে বলে আমাকে রানার কার্ড দিয়েছে। ৬ মাস পরে কার্ড দিবে বলে আমাকে কার্ড দেয় নি। আমি কার্ড নিতে আসলে বারবার আমাকে রেন্যু করে দেয়, আমাকে লাইসেন্স আর দেয় না। আমি কার্ড নিতে আসলে তারা আমাকে বারবার ঘুরায়। কার্ড দিবে এই কথা আমাকে কখনো বলে না।

কোতওয়ালীর ইলাশপুর এলাকার কামাল হোসেন বলেন, আমি ২০২০ সালে আমার ড্রাইভিং লাইসেন্স রেন্যু করার জন্য ব্যাংকে টাকা জমা দিই। এরপর থেকে আমি যখনই বিআরটিএ অফিসে যাই আমাকে বলে যে কয়দিন পর আসেন। এমন করতে করতে ৪ বছর পার হয়ে গিয়েছে, আমার কার্ড আর আমি রেন্যু করতে পারিনি। পরে ২০২৪ সালে এসে আমাকে কার্ড দিবে বলে কাউন্টারে যেতে বলে। সেখানে আমার কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা বেশী দিতে বলেছে তারা৷

পূবালী ব্যাংকের বিরুদ্ধে করা অভিযোগে কাপ্তার বাজার এলাকার নাসিমা আক্তার বলেন, পূবালী ব্যাংকে আমার যৌথ একাউন্টে ৪০ লাখ টাকার এফডিআর করি। ম্যানেজারের কথা শুনে আমরা সিঙ্গেল সিঙ্গেল একাউন্ট করে টাকা জমা করি। এভাবে করলে কেউ টাকা নিতে পারবে না এই শর্ত সাপেক্ষে এফডিআর করি। পরে ব্যাংক কর্মকর্তারা আমাকে না জানিয়ে আমার ছোট ভাইকে টাকা লোন দিয়ে দেয়। ম্যানেজার চালাকি করে আমাকে দিয়ে সিঙ্গেল একাউন্ট খুলিয়েছিলো।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এর বিরুদ্ধে করা অভিযোগে ২৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জামাল হোসেন বলেন, ২০২২ সালে জানতে পারলাম আমার ব্যক্তি জায়গায় কুমিলা সিটি কর্পোরেশন রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের টেন্ডার হয়েছে৷ আমি এর বিরুদ্ধে ৩ টা অভিযোগ করি৷ তাও তারা কোনো কাজ করেনি। তারা উলটো আমার ছাদের নিচ দিয়ে রাস্তা ও ড্রেন করে। এতে আমার ৬০-৭০ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে। আমি এর নিষ্পত্তি চাই৷ এছাড়াও, আমার জায়গা দখল করে আমার প্রতিবেশী অননুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন তৈরী করে। এতে অভিযোগ করেও কোনো ফল পাই নি৷ ভবন তৈরী করে ফেলেছে তারা৷

কুসিকের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগে ৪নং ওয়ার্ডের কাজী আনিস আহমেদ বলেন, সিটি কর্পোরেশন অহরহ ইমারত আইন লঙ্গন করে ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিচ্ছে। এতে আমি ভুক্তভোগী। যেকোনো সময় এতে বিপদ ঘটতে পারে।

আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস কুমিল্লার বিরুদ্ধে করা এক অভিযোগে খোরশেদ আলম গাজী নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, গত ১০ ডিসেম্বর আমার মা’কে হজ্বে পাঠানোর জন্য পাসপোর্ট নিতে যাই। সেখানে আমাদের সিরিয়াল ১২ টায় থাকলেও বিকাল ৫টায়ও আমি পাই নি। পরে দেখি যে ৫০০ টাকা দেয়, তার ফিঙ্গার নিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আমি অভিযোগ দিলেও আমাকে বলা হয় ৫০০ টাকা দিয়ে ফিঙ্গার দিয়ে দিতে।

এছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একে একে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

এসময়, জেলা প্রশাসক মোঃ আমিরুল কায়ছারের সঞ্চালনায় ও সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন,

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোঃ ইসমাইল হোসেন, কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী, কমিশনার (অনুসন্ধান) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ এবং মহাপরিচালক (প্রতিরোধ ও গণসচেতনতা) মোঃ আক্তার হোসেন। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ, জনপ্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এমএস

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে সুন্দরবন রক্ষায় ইনসাফের মানববন্ধন, উত্থাপন ১০ দফা দাবি

কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা মিলনায়তনে দুদকের এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়

আপডেট সময় : ০৭:২০:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৫

দুদক চেয়ারম্যানের সামনে যা বললেন কুমিল্লার ভুক্তভোগীরা। কুমিল্লায় দূর্নীতি দমন কমিশনের উদ্যোগে গণশুনানী অনুষ্ঠিত হয়েছে।কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা মিলনায়তনে দুদকের এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এসময়, সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সেবামূলক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে হয়রানি, দুর্নীতি, অনিয়ম, ঘুষ নেওয়াসহ নানা অভিযোগের তোলেন সেবাগ্রহীতারা। গণশুনানিতে প্রধান অতিথি ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন

সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত চলে দুদকের ওই গণশুনানি। সেখানে বেশ কয়েকটি সরকারি দপ্তরের বিরুদ্ধে প্রায় অর্ধশতাধিক অভিযোগ করেন সেবাগ্রহীতারা । অধিকাংশ অভিযোগ তাৎক্ষণিক সমাধান করা হয়। আর কয়েকটি অভিযোগ অনুসন্ধান করতে দুদককে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এসময় একটি অভিযোগে তাৎক্ষণিক দুদকের মামলা দায়ের করা হয়৷

এসময়, যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়, পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়, নির্বাচন কার্যালয়, বিআরটিএ, কালিরবাজার উচ্চ বিদ্যালয়, ভূমি অফিস, জোনাল সেটেলমেন্ট কার্যালয়, সদর হাসপাতাল, ডিএসবিসহ আরো বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

এসময় গণশুনানীতে বিআরটিএ কুমিল্লার বিরুদ্ধে করা অভিযোগে মালপাড়া চন্ডীপুর এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেন বলেন, আমি লাইসেন্সের ইন্টারভিউ দিয়েছিলাম ২০২০ সালে। আমাকে ২ মাস পরে আসতে বলে আমাকে রানার কার্ড দিয়েছে। ৬ মাস পরে কার্ড দিবে বলে আমাকে কার্ড দেয় নি। আমি কার্ড নিতে আসলে বারবার আমাকে রেন্যু করে দেয়, আমাকে লাইসেন্স আর দেয় না। আমি কার্ড নিতে আসলে তারা আমাকে বারবার ঘুরায়। কার্ড দিবে এই কথা আমাকে কখনো বলে না।

কোতওয়ালীর ইলাশপুর এলাকার কামাল হোসেন বলেন, আমি ২০২০ সালে আমার ড্রাইভিং লাইসেন্স রেন্যু করার জন্য ব্যাংকে টাকা জমা দিই। এরপর থেকে আমি যখনই বিআরটিএ অফিসে যাই আমাকে বলে যে কয়দিন পর আসেন। এমন করতে করতে ৪ বছর পার হয়ে গিয়েছে, আমার কার্ড আর আমি রেন্যু করতে পারিনি। পরে ২০২৪ সালে এসে আমাকে কার্ড দিবে বলে কাউন্টারে যেতে বলে। সেখানে আমার কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা বেশী দিতে বলেছে তারা৷

পূবালী ব্যাংকের বিরুদ্ধে করা অভিযোগে কাপ্তার বাজার এলাকার নাসিমা আক্তার বলেন, পূবালী ব্যাংকে আমার যৌথ একাউন্টে ৪০ লাখ টাকার এফডিআর করি। ম্যানেজারের কথা শুনে আমরা সিঙ্গেল সিঙ্গেল একাউন্ট করে টাকা জমা করি। এভাবে করলে কেউ টাকা নিতে পারবে না এই শর্ত সাপেক্ষে এফডিআর করি। পরে ব্যাংক কর্মকর্তারা আমাকে না জানিয়ে আমার ছোট ভাইকে টাকা লোন দিয়ে দেয়। ম্যানেজার চালাকি করে আমাকে দিয়ে সিঙ্গেল একাউন্ট খুলিয়েছিলো।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এর বিরুদ্ধে করা অভিযোগে ২৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জামাল হোসেন বলেন, ২০২২ সালে জানতে পারলাম আমার ব্যক্তি জায়গায় কুমিলা সিটি কর্পোরেশন রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের টেন্ডার হয়েছে৷ আমি এর বিরুদ্ধে ৩ টা অভিযোগ করি৷ তাও তারা কোনো কাজ করেনি। তারা উলটো আমার ছাদের নিচ দিয়ে রাস্তা ও ড্রেন করে। এতে আমার ৬০-৭০ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে। আমি এর নিষ্পত্তি চাই৷ এছাড়াও, আমার জায়গা দখল করে আমার প্রতিবেশী অননুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন তৈরী করে। এতে অভিযোগ করেও কোনো ফল পাই নি৷ ভবন তৈরী করে ফেলেছে তারা৷

কুসিকের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগে ৪নং ওয়ার্ডের কাজী আনিস আহমেদ বলেন, সিটি কর্পোরেশন অহরহ ইমারত আইন লঙ্গন করে ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিচ্ছে। এতে আমি ভুক্তভোগী। যেকোনো সময় এতে বিপদ ঘটতে পারে।

আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস কুমিল্লার বিরুদ্ধে করা এক অভিযোগে খোরশেদ আলম গাজী নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, গত ১০ ডিসেম্বর আমার মা’কে হজ্বে পাঠানোর জন্য পাসপোর্ট নিতে যাই। সেখানে আমাদের সিরিয়াল ১২ টায় থাকলেও বিকাল ৫টায়ও আমি পাই নি। পরে দেখি যে ৫০০ টাকা দেয়, তার ফিঙ্গার নিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আমি অভিযোগ দিলেও আমাকে বলা হয় ৫০০ টাকা দিয়ে ফিঙ্গার দিয়ে দিতে।

এছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একে একে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

এসময়, জেলা প্রশাসক মোঃ আমিরুল কায়ছারের সঞ্চালনায় ও সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন,

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোঃ ইসমাইল হোসেন, কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী, কমিশনার (অনুসন্ধান) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ এবং মহাপরিচালক (প্রতিরোধ ও গণসচেতনতা) মোঃ আক্তার হোসেন। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ, জনপ্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এমএস