ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় তুরস্কের নির্মিত একমাত্র ক্যান্সার হাসপাতাল গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইল।তেল আবিবের এই ‘ইচ্ছাকৃত’ হামলার নিন্দা জানিয়েছে আঙ্কারা।
শনিবার (২২ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আরব নিউজ।
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘তুর্কি-ফিলিস্তিনি মৈত্রী হাসপাতালে ইসরাইলি ধ্বংসযজ্ঞের তীব্র নিন্দা জানাই।’
ক্যান্সার হাসপাতালে হামলার কথা স্বীকার করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। তবে তারা হাসপাতালটিকে হামাস যোদ্ধাদের ব্যবহার করা একটি নিষ্ক্রিয় হাসপাতাল হিসেবে বর্ণনা করে ‘সন্ত্রাসীদের ওপর হামলা’ চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে।
তুরস্কের অভিযোগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে একজন সামরিক মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, আজ (শুক্রবার) ভোরে, আইডিএফ (সামরিক বাহিনী) হামাসের একটি সন্ত্রাসী অবকাঠামোতে সন্ত্রাসীদের ওপর হামলা চালিয়েছে যা পূর্বে মধ্য গাজা উপত্যকায় একটি হাসপাতাল হিসেবে কাজ করত।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গত মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) থেকে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ফের হামলা শুরু করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। এতে নিহত হন প্রায় ৭০০ ফিলিস্তিনি। আর আহত হয়েছেন শতাধিক।
শুক্রবার থেকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী গাজার আরও গভীরে অগ্রসর হচ্ছে এবং হামাসের হাতে বন্দি অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত আরও জমি দখলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফাহ’র কর্মকর্তারা বলেছেন, ইসরাইলি বোমা হামলার কারণে বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নীচে থাকছেন, যা তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া কর্মীদের সুরক্ষার জন্য আশ্রয় শিবির নির্মাণ বন্ধ করে দিয়েছে কর্মকর্তারা।
ইসরাইল ইতোমধ্যে গাজার প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনিদের খাদ্য, জ্বালানি এবং মানবিক সাহায্য সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। তারা বলছে, হামাস ৫৯ জিম্মিকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত এবং অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে না দেওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান আরও বাড়বে।
আন্তর্জাতিক নিন্দা উপেক্ষা করেই গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সতর্ক করে বলেছেন, ‘ইসরাইল গাজায় ক্রমবর্ধমান তীব্রতার সঙ্গে অভিযান চালাবে যতক্ষণ না হামাস জিম্মিদের মুক্তি দেয়। ’
কেকে