ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

হিউম্যান এইড ফাউন্ডেশনের ‘অন্ন ও আনন্দ’ প্রজেক্টের যাত্রা শুরু

মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং মানবিকতার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ে যাত্রা শুরু হলো হিউম্যান এইড ফাউন্ডেশনের ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ ‘অন্ন ও আনন্দ’ প্রজেক্টের।

এর মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে একটি করে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে দেওয়া হবে ভালোবাসার উপহার। এভাবে এক বছরে মোট ৫২টি পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। এ উদ্যোগ স্থানীয় মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

প্রকল্পের প্রথম সপ্তাহে গতকাল শুক্রবার যশোরের মনিরামপুর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের একটি অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের হাতে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের সূচনা করেন ফাউন্ডেশনের সদস্যরা।

পরিবারটির জন্য উপহার সামগ্রীর তালিকায় ছিল— ২০ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ৫ কেজি আলু ও ২ কেজি পেঁয়াজ, ২ লিটার সয়াবিন তেল, ১ কেজি রসুন, ১ কেজি লবণ, ২৫০ গ্রাম হলুদ, ১০০ গ্রাম শুকনা মরিচ, ২৫০ গ্রাম আদা, মিক্স মসলা, ৫০০ গ্রাম চিনি, ৫০০ গ্রাম খেজুর, ৫০০ গ্রাম আপেল, ২৫০ গ্রাম আঙুর, ৫০০ গ্রাম সেমাই, ৫০০ গ্রাম মুড়ি, ১টি টুথপেস্ট, ২টি টুথব্রাশ, ১টি সাবান এবং ৫০০ গ্রাম ডিটারজেন্ট পাউডার।

এ প্রকল্পের পরিচালক ও ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক আনিচুর রহমান বলেন, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে হিউম্যান এইড ফাউন্ডেশন সর্বদা নিয়োজিত থাকবে। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে আমাদের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের মূল লক্ষ্য।

ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, একটি অসহায় পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। আমাদের এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ তাদের কিছুটা হলেও কষ্ট লাঘব করবে বলে বিশ্বাস করি। মানবতার কল্যাণে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।

ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি তবিবুর রহমান বলেন, ইসলাম আমাদের মানবসেবা, সহমর্মিতা ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষের মধ্যে সেই ব্যক্তিই উত্তম, যে মানুষের উপকার করে।’ সেই মহান আদর্শকে ধারণ করেই সাপ্তাহিক ভালোবাসার উপহার ‘অন্ন ও আনন্দ’ প্রকল্পের যাত্রা শুরু। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং এক বছরে কমপক্ষে ৫২টি পরিবারকে পরিপূর্ণ সহায়তা প্যাকেজ উপহার দেওয়া। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা পেলে এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে। আমরা চাই, আমাদের এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ অন্যদেরও মানবকল্যাণে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করুক।’

প্রসঙ্গত, হিউম্যান এইড ফাউন্ডেশন ২০২০ সালে প্রতিষ্টার পর থেকেই সামাজিক ও মানবিক কাজের মাধ্যমে জনগণের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। শুধু স্বাস্থ্যসেবাই নয়, সংগঠনটি বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগেও সক্রিয়। এর মধ্যে রয়েছে অসচ্ছল পরিবারকে সহায়তা, চলাচলে অক্ষমদের হুইলচেয়ার বিতরণ, নারীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সেলাই মেশিন বিতরণ, দূর্যোগ ও উৎসবে ত্রাণ বিতরণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ, বৃক্ষরোপণ, রাস্তা মেরামত এবং টিউবওয়েল স্থাপন। এছাড়া সংগঠনটির তত্তবধয়ানে ১০০ এর বেশি শিক্ষার্থী নিয়ে দুটি মসজিদে মক্তব পরিচালিত হচ্ছে।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হিউম্যান এইড ফাউন্ডেশনের ‘অন্ন ও আনন্দ’ প্রজেক্টের যাত্রা শুরু

হিউম্যান এইড ফাউন্ডেশনের ‘অন্ন ও আনন্দ’ প্রজেক্টের যাত্রা শুরু

আপডেট সময় : ০৭:০৪:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং মানবিকতার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ে যাত্রা শুরু হলো হিউম্যান এইড ফাউন্ডেশনের ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ ‘অন্ন ও আনন্দ’ প্রজেক্টের।

এর মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে একটি করে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে দেওয়া হবে ভালোবাসার উপহার। এভাবে এক বছরে মোট ৫২টি পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। এ উদ্যোগ স্থানীয় মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

প্রকল্পের প্রথম সপ্তাহে গতকাল শুক্রবার যশোরের মনিরামপুর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের একটি অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের হাতে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের সূচনা করেন ফাউন্ডেশনের সদস্যরা।

পরিবারটির জন্য উপহার সামগ্রীর তালিকায় ছিল— ২০ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ৫ কেজি আলু ও ২ কেজি পেঁয়াজ, ২ লিটার সয়াবিন তেল, ১ কেজি রসুন, ১ কেজি লবণ, ২৫০ গ্রাম হলুদ, ১০০ গ্রাম শুকনা মরিচ, ২৫০ গ্রাম আদা, মিক্স মসলা, ৫০০ গ্রাম চিনি, ৫০০ গ্রাম খেজুর, ৫০০ গ্রাম আপেল, ২৫০ গ্রাম আঙুর, ৫০০ গ্রাম সেমাই, ৫০০ গ্রাম মুড়ি, ১টি টুথপেস্ট, ২টি টুথব্রাশ, ১টি সাবান এবং ৫০০ গ্রাম ডিটারজেন্ট পাউডার।

এ প্রকল্পের পরিচালক ও ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক আনিচুর রহমান বলেন, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে হিউম্যান এইড ফাউন্ডেশন সর্বদা নিয়োজিত থাকবে। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে আমাদের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের মূল লক্ষ্য।

ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, একটি অসহায় পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। আমাদের এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ তাদের কিছুটা হলেও কষ্ট লাঘব করবে বলে বিশ্বাস করি। মানবতার কল্যাণে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।

ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি তবিবুর রহমান বলেন, ইসলাম আমাদের মানবসেবা, সহমর্মিতা ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষের মধ্যে সেই ব্যক্তিই উত্তম, যে মানুষের উপকার করে।’ সেই মহান আদর্শকে ধারণ করেই সাপ্তাহিক ভালোবাসার উপহার ‘অন্ন ও আনন্দ’ প্রকল্পের যাত্রা শুরু। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং এক বছরে কমপক্ষে ৫২টি পরিবারকে পরিপূর্ণ সহায়তা প্যাকেজ উপহার দেওয়া। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা পেলে এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে। আমরা চাই, আমাদের এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ অন্যদেরও মানবকল্যাণে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করুক।’

প্রসঙ্গত, হিউম্যান এইড ফাউন্ডেশন ২০২০ সালে প্রতিষ্টার পর থেকেই সামাজিক ও মানবিক কাজের মাধ্যমে জনগণের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। শুধু স্বাস্থ্যসেবাই নয়, সংগঠনটি বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগেও সক্রিয়। এর মধ্যে রয়েছে অসচ্ছল পরিবারকে সহায়তা, চলাচলে অক্ষমদের হুইলচেয়ার বিতরণ, নারীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সেলাই মেশিন বিতরণ, দূর্যোগ ও উৎসবে ত্রাণ বিতরণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ, বৃক্ষরোপণ, রাস্তা মেরামত এবং টিউবওয়েল স্থাপন। এছাড়া সংগঠনটির তত্তবধয়ানে ১০০ এর বেশি শিক্ষার্থী নিয়ে দুটি মসজিদে মক্তব পরিচালিত হচ্ছে।